লাইফ ভেরিফিকেশন করার নিয়ম

আপনি নিশ্চই লাইফ ভেরিফিকেশন করার নিয়ম জানতে চান। তাহলে একটু সময় নিয়ে পড়ুন, আশা করি পেনশনারদের লাইফ ভেরিফিকেশন আপনি নিজেই করতে পারবেন। 

লাইফ ভেরিফিকেশন করার নিয়ম

আমি নিজে একজন সরকারি কর্মচারী হিসাবে হিসাবরক্ষণ অফিসে কর্মরত থাকার দরুন আমি বিষয়টাকে ভালভাবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। আপনি লাইফ ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত কোন সমস্যায় পড়লে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আমি সমাধানের চেষ্টা করব  ইনশাআল্লাহ।

বর্তমানে পেনশনযোগ্য সরকারি চাকরি ৫ বছর কররেই মিলবে পেনশন সুবিধা। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে মেডিকেল বোর্ড হতে সে অক্ষম বলে ঘোষনা করলে। অথবা চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে তার পরিচার ২১% পেনশন সুবিধা পাবেন। 

সরকার একজন কর্মচারীরে তার চাকরির কর্মকাল শেষে ৯০% গ্রাচুয়েটি/আনুতোষিক দিয়ে থাকে। যত দিন পর্যন্ত একজন কর্মচারী জীবিত থাকে ততদিন পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পেতে থাকে। এবং তার মৃত পরবর্তীতে তার মনোনীত ব্যক্তি/ উত্তরাধীকারি ব্যক্তিবর্গ এই পেনশন সুবিধা পেয়ে থাকে। যদি তার প্রতিবন্ধী সন্তান থাকে তবে সেও পেনশন সুবিধা পাবেন।

লাইফ ভেরিফিকেশন ফর পেনশন বাংলাদেশ

একজন কর্মচারী তার পিআরএল ভোগ শেষ হবার পরের দিন থেকেই পেনশন সুবিধা পাবেন। এই যখন তিনি পেনশনার হবেন তখন থেকে প্রতি মাসেই পেনশন পাবেন  এবং সাথে মেডিকেল ফি বাবদ ১৫০০ টাকা পাবেন। এবং বর্তমানে প্রতি মাসেই বিশেষ সুবিধা পাবেন পেনশন বেসিকের ৫%। এটা প্রতি মাসেই বেতনের ন্যায় আপনার ব্যাংক একাউন্টে পেয়ে যাবেন। 

কিন্তু ১০ মাস পর এগারতম মাসে আপনাকে লাইফ ভেরিফিকেশন করানো লাগবে। আপনি কি বেচে আছেন নাকি মারা গেছেন? আপনি বেচে থাকলে অবশ্যই লাইভ ভেরিফিকেশন করানো লাগবে। আপনি যদি  এক্ষেত্রে দেরি করেন তাহলে আপনার পেনশন বন্ধ হয়ে যাবে। 

পেনশন লাইফ ভেরিফিকেশন

আপনি যে নম্বর দিয়ে পেনশন অনলাইন করার সময় দিয়েছিলেন, সেই নাম্বারে লাইফ ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত একটি আগাম ম্যাসেজ পাঠানো হবে পেনশন এন্ড ফান্ড ম্যানেজমেন্ট থাকে। যেখানে উল্লেখ থাকে আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে নিকটস্থ কোন হিসাবরক্ষণ অফিসে গিয়ে লাইফ ভেরিফিকেশন করান। তবে অবশ্যই আপনি এনআইডি কার্ড সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন।

তবে কোন পুরুষ কিংবা মহিলার বয়স যদি ৫২ বছরের কম হয়ে থাকে তখন আপনি অ্যাপস দিয়ে ভেরিফিকেশন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনাকে নিকটস্থ হিসাবরক্ষণ অফিসে যেতে হবে। এবং নন-ম্যারিজ সার্টিফিকেট দিতে হবে। সেটা হিসাবরক্ষণ অফিস স্ক্যান করে পাঠিয়ে থাকে পেনশন ও ফান্ড ম্যানেন্টের সার্ভারে। 

পেনশনার লাইভ ভেরিফিকেশন অ্যাপস

বর্তমান সরকারের যুগপোযোগি সিদ্ধান্ত হলো আপনি বাসায় বসেই অ্যাপ্সের মাধ্যমে লাইফ ভেরিফিকেশন করতে পারবেন। তবে  এক্ষেত্রে প্রথমে ইন্সটল দিবেন। চালু হওয়ার পর কিছু অপশন আসবে সেগুলোকে এক্সেস এর পার্মিশন দিবেন।  

তারপর পেনশনার লাইভ ভেরিফিকেশন করার জন্য 

লগইন ধাপ: ১

প্রথমে আপনার এনআইডি স্ক্যান করুন/ টাইপ করে নাম্বার দিন।

পেনশনার লাইভ ভেরিফিকেশন অ্যাপস

লগইন ধাপ: ২

অতপর ১০ ডিজিটের ইপিপিও নাম্বার দেওয়া লাগবে। 

পেনশনার লাইভ ভেরিফিকেশন অ্যাপস

৩। লাইফ ভেরিকেশন এ ক্লিক করুন।

লাইফ ভেরিফিকেশন ফর পেনশন বাংলাদেশ

৪। আপনার ছবি দিক নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরিয়ে ও চোখের পলক দিয়ে সফল করুন।

লাইফ ভেরিফিকেশন ফর পেনশন বাংলাদেশ

ছবি আপলোড যথাযথ সঠিক নিয়মে তোলা হলে সফল হয়েছে বলে একটি ইউন্ডো আসবে। 

লাইফ ভেরিফিকেশন ফর পেনশন

তবে ছবি তুলার সময় অবশ্যই চশমা/মাস্ক পড়া থাকলে খুলে ফেলুন। এবং পর্যাপ্ত আলোতে ছবি ‍তুলুন।

Pensioner Verification Apps Link Click Here

আপনি গুগলে গিয়ে পেনশন ভেরিফিকেশন অনলাইন অ্যাপস লিখে সার্চ দিবেন।  অর্থ মন্ত্রনালয়ের যে অ্যাপস আসবে সেটাই মুলত পেনশনার ভেরিভিকেশন অ্যাপস। অথবা প্লে স্টোরে দিয়ে লিখলেও পাবেন। তবে ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিবেন। 

লাইভ ভেরিফিকেশন অ্যাপস সম্পর্কে জানতে

লাইভ ভেরিফিকেশন সফল হওয়ার পর

আপনি যদি হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে করেন সেক্ষেত্রে আপনার রেজিস্টার্ড নাম্বারে সাথে সাথে একটি ম্যাসেজ চলে আসবে। মোবাইলের অ্যাপসের ক্ষেত্রে ম্যাসেজ আসবে না। তবে দু:শ্চিন্তার কোন কারন নাই।

তবে মনে রাখবেন, আপনার লাইফ ভেরিফিকেশন সফলভাবে হওয়ার পরপর ই কিন্তু টাকা আপনার একাউন্টে ঢুকে যাবে না। এক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে করলেও সাথে সাথে টাকা ঢুকবে। ন্যূনতম ৩ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

শেষ কথা

আশা করি পেনশনারদের লাইফ ভেরিফিকেশন করার নিয়ম সম্পর্কে সম্যক ধারনা পেয়েছেন। তবে এ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে  আপনি কমেন্ট করুন।

Leave a Comment